ব্যাংক খাতে নতুন করারোপের পরিকল্পনা বাতিল পাকিস্তানে

তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর ব্যাংক থেকে সরকারের নেয়া ঋণের মুনাফার ওপর কর আরোপের পরিকল্পনা বাতিল করেছে পাকিস্তান।

তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর ব্যাংক থেকে সরকারের নেয়া ঋণের মুনাফার ওপর কর আরোপের পরিকল্পনা বাতিল করেছে পাকিস্তান। দক্ষিণ এশীয় দেশটির স্থবির অর্থনীতিকে গতিশীল এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে প্রস্তাবটি তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর এফটি।

এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের অ্যাডভান্স-টু-ডিপোজিট রেশিও (এডিআর) ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি করতে হতো। অন্যথায় বিনিয়োগ আয়ের ওপর আরোপ করা হতো অতিরিক্ত ১০-১৫ শতাংশ কর। মোট আমানতের তুলনায় একটি ব্যাংক কতটা ঋণ দেয় তার ওপর নির্ভর করে এডিআর। এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল ব্যাংকগুলোকে সরকারি ঋণ বাবদ আয়ের ওপর নির্ভর না করে বেসরকারি খাতে আরো বেশি ঋণ দিতে উৎসাহিত করা। তবে ঋণদাতারা এ নিয়মের বিরোধিতা করে আইনি চ্যালেঞ্জ যায় এবং আমানতের ওপর ফি আরোপ করে।

পাকিস্তান সরকার গতকাল এডিআর কর পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসার সিদ্ধান্ত জানায়। পরিবর্তে ব্যাংকগুলোর ওপর মোট আয়কর ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে ৪৪ শতাংশ করার একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে বলে জানান দুজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা। এ কর ২০২৬ সালে ৪৩ শতাংশে এবং ২০২৭ সালে ৪২ শতাংশে নেমে আসবে।

ব্যাংকগুলোর ২০২৪ সালের মুনাফার ওপর ভিত্তি করে ব্রোকারেজ টপলাইন সিকিউরিটিজ পূর্বাভাস দিয়েছে যে এ নতুন করের মাধ্যমে ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হতে যাওয়া করবর্ষে সরকার কমপক্ষে ৬০ বিলিয়ন রুপি (২১৬ মিলিয়ন ডলার) আয় করবে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, অর্থনৈতিক সংকোচন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ২২ শতাংশ সুদহার পাকিস্তানকে জিডিপির হিসাবে বেসরকারি খাতে দেশীয় ঋণের নিম্নতম হারের একটি দেশে পরিণত করেছে।

একই সময়ে, পাকিস্তানের ব্যাংকগুলো সরকারের নেয়া ঋণ থেকে বিপুল পরিমাণ মুনাফা অর্জন করেছে, যা তাদের নতুন ঋণ দিকে নিরুৎসাহিত করেছে।

পাকিস্তান সরকারের জন্য এ মুনাফার একটি বৃহৎ অংশ পুনরুদ্ধার এবং কোম্পানিগুলোর জন্য বেসরকারি ঋণের প্রবাহ বাড়াতে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে এডিআর করের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল। কিছু ঋণদাতা এরই মধ্যে প্রস্তাবিত এডিআরের সীমা পূরণের প্রচেষ্টা শুরু করেছে।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান অনুযায়ী, অক্টোবরে বেসরকারি খাতে ঋণ ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন রুপি বেড়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রোকারেজ আরিফ হাবিবের মতে, ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতের এডিআর ৪৯ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগস্টে ছিল ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ।

তবে বিশ্লেষক ও ব্যাংকসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, এ অর্থের অনেকটাই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোয় কৃত্রিমভাবে কম সুদে বা লোকসান দিয়ে বৃহৎ করপোরেট এবং উন্নয়নমূলক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে চলে গেছে। কিছু ঋণদাতা তাদের বড় আমানতকারীদের ওপর প্রায় ৫ শতাংশ মাসিক ফি চালু করেছিল, যাতে তারা তাদের আমানত কমিয়ে এডিআর অনুপাতকে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় নিতে পারে। তবে গ্রাহকদের অভিযোগের পর প্রত্যাহার করা হয় এসব ফি।

আরও